দর্শকদের জন্যই এত পরিশ্রম, জানালেন তামিম

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান আছেন, এ কথা অস্বীকার করার সাধ্য নেই কারও। তবুও পরিসংখ্যান বিচারে লম্বা ইনিংস খেলার দিক থেকে বিশ্বের অন্যান্য দল থেকে বেশ পিছিয়ে টাইগাররা। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে ক্রিকেটারদের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্রায়ই রসিকতা করে বলেন, অর্ধশতক হাঁকালেই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা ধরে নেন তাদের দায়িত্ব শেষ। রসিকতা এক পাশে রাখলেও খেলোয়াড়দের বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। ফিটনেসের ঘাটতি নয়, বরং বড় ইনিংস খেলার অভ্যাস না থাকার কারণেই তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ মিঠুনরা বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না বলে অভিমত বাশারের।

বিডিক্রিকটাইমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘পঞ্চাশ করে আউট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থেকে বের হতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই লম্বা ইনিংস খেলার চেষ্টা করতে হবে। এই দুই বছর আমরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খুব বেশি খেলতে পারিনি। লঙ্গার ভার্শনে দীর্ঘসময় ব্যাট করার, লম্বা ইনিংস খেলার সুযোগ থাকে। এখান থেকেই অভ্যাস তৈরি হয়। ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে ঐ সুযোগ খুব একটা পাবেন না, লম্বা ইনিংস খেলার অভ্যাসটা গড়ে ওঠে না। যে সময়টা আমরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে পারিনি, এটা আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’ ‘

‘লম্বা ইনিংস খেলা অভ্যাসের ব্যাপার। সেই অভ্যাস লঙ্গার ভার্শনেই তৈরি হয়। পঞ্চাশ করে তো কেউ ক্লান্ত হওয়ার কথা না। এখনকার ছেলেরা ফিট ক্রিকেটার। আমাদের থেকে ওরা অনেক বেশি ফিট, শারীরিকভাবে সক্ষম। শুধু মনঃসংযোগের ব্যাপার। এটা তখনই তৈরি হবে যখন আপনি ঘরোয়া লঙ্গার ভার্শনে লম্বা লম্বা ইনিংস খেলবেন।’

যদিও মহামারী করোনার কারণে লঙ্গার ভার্শন ঠিকঠাক খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না ক্রিকেটাররা। গত বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে এ বছর মাঠে গড়ায় জাতীয় ক্রিকেট লিগ। তবে করোনার হানায় আসর স্থগিত করা হয়।

তবে ক্রিকেটের ভালোর জন্য খেলা মাঠে রাখার পক্ষে বাশার। করোনায় ঘটা ছন্দপতন এ বছরই দেশের ক্রিকেট কাটিয়ে উঠতে পারবে বলেও আশাবাদ তার।

বাশার বলেন, ‘শুধু নির্বাচকদের জন্যই চ্যালেঞ্জ ছিল না। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের কাজ তো মূলত জাতীয় দল নিয়ে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরিসর কিন্তু আরও অনেক বড়। ঘরোয়া ক্রিকেট যেকোনো দেশের ক্রিকেটের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। গত প্রায় এক বছর ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ ছিল। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই খেলার সুযোগ পায়নি। এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো খবর ছিল না। তাদের মাঠে ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন যখন খেলা শুরু করেছি, বেশি সংখ্যক খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করতে পারি।’

‘অবশ্যই এটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা তো চাই-ই অনেক খেলোয়াড়কে নিয়ে কাজ করতে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে এখন আমরা ক্রিকেটে ফিরেছি, ঘরোয়া খেলার সংখ্যা বাড়ছে, আশা করি এ বছরের শেষদিকে ভালোভাবে খেলায় ফিরে আসতে পারব।’– বলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *