আর্জেন্টিনার রক্ষণের “নতুন প্রাচীর” রোমেরো

আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
র্স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,

আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

কবি সুকান্ত ভট্রাচার্যের বিখ্যাত আঠার বছর বয়স কবিতার প্রথম চার চরণের সাথে এখনকার আর্জেন্টিনা দলের দারুন মিল রয়েছে। তারুণ্যে ভর করেই দীর্ঘদিনের শিরোপাখরা কাটানোর আশায় দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরীরা।

আর্জেন্টাইন শিবিরে তারুণ্য শক্তির বার্তা নিয়ে যেন হাজির হয়েছেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। যদিও তার বয়স তেইশ বছর, তারপরও জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার কথা বিবেচনায় তাকে বেশ তরুণই বলা যায়।

এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সিতে মাত্র ৪টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন রোমেরো। এই চার ম্যাচে দলের রক্ষণভাগ অনেকটা একাই সামলেছেন ইতালিয়ান ক্লাব আটালান্টার হয়ে মাঠ মাতানো এই তারকা। করেছেন আরও একটি গোল।

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ওয়াল্টার স্যমুয়েলের পর এই প্রথম একজন ভরসা করার মতো সেন্টার ব্যাক পাওয়ার আশা করছে আর্জেন্টাইন শিবির। আরেক আলবেসিলেস্তে কিংবদন্তি হ্যাভিয়ের মাসচেরানোর অবসরের পর রক্ষণে বেশ ভুগছিলো আর্জেন্টিনা। রোমেরো আসার পর সেই শূন্যতা অনেকাংশেই পূরণ হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আর্জেন্টিনা দলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও সেই বার্তায় দেয়। নিজেদের সর্বশেষ ১৬ ম্যাচে অপরাজিত লিওনেল স্কালোনির দল। গত বারের কোপার সেমিতে ব্রাজিলের কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত হারের স্বাদ পায়নি লিওনেল মেসির দল। যদিও এর মধ্যে মাত্র ৪ ম্যাচে মাঠে ছিলেন রোমেরো।

জাতীয় দলের রক্ষণভাগের মশাল নিজ হাতে তুলে নিয়েছেন ইতালিয়ান লিগ মাতানো এই উঠতি তারকা। এবারের কোপা আমেরিকায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গুইদো রদ্রিগেজের একমাত্র গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। যদিও এই জয়ে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেন রোমেরো। সুয়ারেজ-কাভানির মতো বিশ্বসেরা তারকাদের একটি শটও গোলবারে রাখতে দেননি রোমেরোর নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টাইন ডিফেন্স।

রোমেরোর জাতীয় দলের এই সফলতা কিন্ত হুট করেই আসেনি। ইতালিয়ান ক্লাব আটালান্টার হয়ে সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে আলো ছড়িয়েছেন এই তরুণ তুর্কী। হয়েছেন সিরি-আ’র বর্ষসেরা ডিফেন্ডারও।

রোমেরোর শক্তির জায়গা বলতে গেলে সবার আগে আসে তার ট্যাকেল, ইন্টারসেপশন, বাতাসে নিজের সক্ষমতা, গতিসহ আরও অনেক কিছুই। সবমিলিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণের জন্য আশীর্বাদ হয়েই এসেছেন রোমেরো সে কথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

রোমেরোদের মতো তরুণদের উপর ভর করেই তিন দশকের শিরোপাখরা কাটাতে পারবে কি আর্জেন্টিনা? মেসিকে এনে দিতে পারবে কি শিরোপার স্বাদ? উত্তরটা না হয় তোলা থাক সময়ের হাতেই!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *